নিজস্ব প্রতিবেদক, জামালপুর:
জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সার সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মহল।
প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়, মেসার্স নিখিল চন্দ্র সাহা এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে—সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং কৃষকদের সঙ্গে অসদাচরণ—এসব অভিযোগ বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য প্রচার করছে বলে দাবি করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার নির্ধারিত নীতিমালা ও দামের ভিত্তিতেই নিয়মিতভাবে টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সার বিক্রি করা হচ্ছে। বাজারে সারের কোনো ঘাটতি নেই এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সার বিতরণ করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
প্রতিবাদে আরও বলা হয়, কিছু ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ কৃষকদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে, যার ফলে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। এই ধরনের অপপ্রচার শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করে না, বরং কৃষি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এছাড়া রশিদ ছাড়া অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগও সম্পূর্ণ অস্বীকার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিটি বিক্রয় প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করা হয় এবং যথাযথভাবে রশিদ প্রদান করা হয়।
প্রতিবাদলিপিতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের প্রতি দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে যথাযথ তদন্ত, যাচাই-বাছাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় এ ধরনের একপাক্ষিক সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং একটি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করে।
একই সঙ্গে প্রকাশিত মিথ্যা সংবাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও দ্রুত সংশোধন প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় প্রয়োজনে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও ইঙ্গিত করা হয়।
উল্লেখ্য, এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ রতন মিয়া পূর্বে জানান, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। কেউ যদি নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কিংবা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকে, তবে অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, কৃষি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে বাস্তব তথ্য তুলে ধরা গণমাধ্যমের নৈতিক দায়িত্ব। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ থেকে সংশ্লিষ্টরা বিরত থাকবে।