নওগাঁয় চাঁদা না পেয়ে শিক্ষকের বাড়িতে ককটেল হামলার অভিযোগ, আতঙ্কে পরিবার
বাংলাদেশ

নওগাঁয় চাঁদা না পেয়ে শিক্ষকের বাড়িতে ককটেল হামলার অভিযোগ, আতঙ্কে পরিবার

নওগাঁ শহরের আরজী নওগাঁ আনন্দনগর এলাকায় চাহিদামতো চাঁদার টাকা না পেয়ে এক স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে ককটেল হামলার অভিযোগ উঠেছে।


এ,বি,এম,হাবিবুর রহমান হাবিব : নওগাঁ শহরের আরজী নওগাঁ আনন্দনগর এলাকায় চাহিদামতো চাঁদার টাকা না পেয়ে এক স্কুলশিক্ষকের বাড়িতে ককটেল হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। আতঙ্কে দিন কাটছে শিক্ষক দম্পতি ও তাদের সন্তানদের।

ভুক্তভোগী মোজাহারুল ইসলাম, সরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক। তিনি অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্র নানা অজুহাতে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। কয়েক দফায় টাকা দেওয়ার পরও সর্বশেষ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দাবি করা হয় তার কাছে। দাবি অনুযায়ী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি।

এ ঘটনায় থানায় দায়ের করা এজাহারে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলো- আনন্দনগর এলাকার মেহরাব হোসেন আদিত্ত (১৮), তার মা জুড়াইয়া আফরিন ডলি (৩৮) এবং লাটাপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নান ওরফে মান্না (৪০)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তরা মোজাহারুল ইসলামের বাড়িতে এসে ফের চাঁদার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে একপর্যায়ে বাড়ির গেটে ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। প্রতিবাদ করলেই মারধর, মিথ্যা মামলা ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাদের।

মোজাহারুল ইসলামের স্ত্রী রুবিয়া খাতুন বলেন, “তারা আগেও নানা অজুহাতে আমাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। এবার ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা না দেওয়ায় বাসায় ককটেল হামলা চালায়। এখন প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। আমার ছোট মেয়ে একা স্কুলে যাতায়াত করে— আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আব্দুল হামিদ ও ভানা প্রামাণিক জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগে থেকেও নানা অভিযোগ রয়েছে। প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে তারা এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করছে বলে দাবি তাদের।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে অভিযুক্ত মেহরাব হোসেন আদিত্ত। সে বলে, “চাঁদা দাবীর অভিযোগ মিথ্যা। এটা পারিবারিক বিরোধের জের।” ককটেল হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সে বলে, ওটা ককটেল নয় অন্য জিনিস বলে বিষয়টি এড়িয়ে যায় এবং ফোন কেটে দেয়।

অন্য আসামি আব্দুল মান্নান ওরফে মান্নাও অভিযোগ অস্বীকার করে বলে, “মোজাহারুল নামে কাউকে আমি চিনিই না। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে বলে সে জানায়।

এ বিষয়ে নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান বলেন, “আমি সম্প্রতি যোগদান করেছি। বিষয়টি এখন জেনেছি বা জানলাম। তদন্ত করে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আইনগত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। 

ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে থাকা পরিবারটি দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন: